বাংলাদেশে পেরোলের আর কোনো অংশে এত ভুল হয় না, যত হয় ওভারটাইমের হিসাবে। কারণটা সাধারণত অসাবধানতা না। হাতে হিসাব করতে গেলে নিয়মগুলো ভুলভাবে খাটিয়ে ফেলা খুব সহজ, সমস্যাটা সেখানেই। ব্যাপারটা আসলে কীভাবে চলে, সেটাই এখানে বলছি।
ওভারটাইম হিসেবে কী গণ্য হয়
বাংলাদেশ শ্রম আইনে দৈনিক আর সাপ্তাহিক কাজের যে সীমা বেঁধে দেওয়া আছে, তার বাইরে যতটুকু কাজ হয় সেটাই সাধারণত ওভারটাইম। হিসাব শুরু করার আগে প্রতিটা পদের জন্য নির্ধারিত কাজের ঘণ্টা কত, তার একটা পরিষ্কার রেকর্ড থাকা দরকার, আর সেটা সবার ক্ষেত্রেই এক নিয়মে হতে হবে। কারণ ওই ভিত্তিটা ছাড়া ওভারটাইম কথাটারই কোনো মানে থাকে না।
ওভারটাইমের হারটা কত
বাংলাদেশ শ্রম আইন অনুযায়ী ওভারটাইমের টাকা কর্মীর সাধারণ ঘণ্টাপ্রতি হারের চেয়ে বেশি হারে দিতে হয়। সাধারণত এটাকে স্বাভাবিক হারের দ্বিগুণ বলা হয়, যদিও খাতভেদে বিধানে কিছু পার্থক্য থাকতে পারে। তাই একটা সংখ্যা সবার জন্য খাটবে ধরে নেবেন না। আপনার ব্যবসার জন্য এখন কোন হারটা প্রযোজ্য আর আপনার খাতে আলাদা কোনো নিয়ম আছে কিনা, সেটা প্রতিবার মিলিয়ে নিন।
আগে ঘণ্টাপ্রতি মজুরিটা বের করুন
ওভারটাইমের বাড়তি হার বসানোর আগে ঘণ্টাপ্রতি সঠিক মজুরিটা বের করতে হবে। সাধারণত কর্মীর মূল বেতনকে নির্ধারিত কাজের ঘণ্টা দিয়ে ভাগ করেই এটা পাওয়া যায়, আর সবার ক্ষেত্রে একই নিয়মে ভাগ করতে হয়। এই গোড়ার হিসাবটা ভুল হলে এরপরের প্রতিটা ওভারটাইমের হিসাবই ভুল হবে, ওভারটাইমের হারটা যতই ঠিকভাবে বসান না কেন।
হাতে ওভারটাইমের হিসাব রাখলে কেন গড়বড় হয়
ওভারটাইমের হিসাব পুরোপুরি নির্ভর করে হাজিরার তথ্য কতটা নির্ভুল তার ওপর। হাজিরা যদি পেরোল থেকে আলাদা জায়গায় রাখা হয়, যেমন কাগজে, কিংবা এমন বায়োমেট্রিক মেশিনে যেটা থেকে কেউ নিয়মিত তথ্য বের করে না, অথবা অন্য কোনো স্প্রেডশিটে, তাহলে কার কত ওভারটাইম পাওনা তা বের করতে হলে প্রতি মাসে, প্রতিটা কর্মীর জন্য কাউকে হাতে করে কাজের ঘণ্টার সাথে নির্ধারিত ঘণ্টা মেলাতে বসতে হয়।
টিম বড় হলে ভুলটা জমতে থাকে
একজন কর্মীর ওভারটাইমের হিসাবে একবার ভুল হলে সেটা ছোট একটা সংশোধন। কিন্তু স্প্রেডশিটে একটা ভুল সূত্র কপি হয়ে পুরো টিমের ঘরে বসে গেলে সেই একই ভুল বারবার ঘটতে থাকে। তখন সেটা একসাথে ডজন ডজন মানুষের বেতনের ভুল হয়ে দাঁড়ায়, আর পুরো পেরোল প্রক্রিয়ার ভেতরে হারিয়ে গিয়ে মাসের পর মাস ধরাই পড়ে না।
এটা যেখানে আইনগতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যায়
ওভারটাইম কম দেওয়াটা নিছক হিসাবের ভুল না, এটা শ্রম আইন না মানার শামিল। কেউ এটা নিয়ে প্রশ্ন তুললে বা পরিদর্শন হলে কোম্পানি সত্যিকারের ঝুঁকিতে পড়ে।
এখানে “কেউ অভিযোগ করলে তখন ঠিক করে নেব” মনোভাব নিয়ে চলাটা রীতিমতো বিপজ্জনক।
Utso কোথায় কাজে লাগে
Utso হাজিরার তথ্য সরাসরি পেরোলের সাথে জুড়ে দেয়। ফলে ওভারটাইমের ঘণ্টা হাতে মেলানো কোনো স্প্রেডশিট থেকে না, আসল রেকর্ড করা সময় থেকেই হিসাব হয়। আর প্রতিটা কর্মীর জন্য, প্রতি মাসেই, একই সঠিক হার বসে। এর দুটো দিক আলাদা করে দেখানো আছে: হিসাবের জন্য পেরোল সফটওয়্যার, আর ঘণ্টাগুলো কোথা থেকে আসছে তার জন্য হাজিরা ব্যবস্থাপনা।
আরেকটা কথা
এই লেখায় বাংলাদেশে ওভারটাইমের হিসাব সাধারণভাবে কীভাবে হয় তা বোঝানো হয়েছে। ইচ্ছা করেই এখানে কোনো একটা নির্দিষ্ট হারকে সবার জন্য চূড়ান্ত বলে দেওয়া হয়নি, কারণ খাতভেদে নিয়ম আলাদা হতে পারে আর সংশোধনীও আসে। তাই পেরোল প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার আগে শ্রম আইন দেখে নিন বা একজন শ্রম আইন বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে এখনকার সঠিক নিয়মটা জেনে নিন।
