বাংলাদেশে ব্যবসা চালালে আর আপনার অধীনে কর্মী থাকলে বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ আপনার জানা থাকা দরকার। এরপর আইনটা কয়েকবার সংশোধন হয়েছে, বিশেষ করে ২০১৩ আর ২০১৮ সালে। কাজের ঘণ্টা, ছুটি, বেতন, কাউকে বিদায় করার নিয়ম, নিরাপত্তা আর কর্মী কল্যাণ, সবই এর মধ্যে আছে। বেশিরভাগ মালিক কিন্তু ইচ্ছা করে আইন না মেনে সমস্যায় পড়েন না। সমস্যাটা হয় অন্যভাবে: ব্যবসা এমন জায়গায় গিয়ে দাঁড়ায় যেখানে একজনের পক্ষে আর সবকিছু মনে রাখা সম্ভব হয় না, আর তখনই হিসাব রাখাটা বন্ধ হয়ে যায়।
এই আইন কাদের জন্য প্রযোজ্য?
বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের বেশিরভাগ কর্মীই এই আইনের আওতায় পড়েন। কিছু শিল্পে এর ওপর বাড়তি নিয়ম আছে, যেমন রপ্তানিমুখী পোশাক খাত, যেখানে বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা ২০১৫ অনুযায়ী আরও বিস্তারিত নিয়ম মানতে হয়। কোম্পানির আকারও একটা বড় বিষয়। কর্মীর সংখ্যা একটা নির্দিষ্ট মাত্রা ছাড়ালে নতুন কিছু দায়িত্ব এসে পড়ে, যেমন অংশগ্রহণ কমিটি গঠন করা বা কল্যাণ কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া। টিম বড় হতে থাকলে বছরে একবার দেখে নেওয়া ভালো, এসব সীমার কোনোটা আপনি পেরিয়ে গেছেন কিনা।
যে অংশগুলোতে সবচেয়ে বেশি কাজ লাগে
কাজের ঘণ্টা আর ওভারটাইম। আইনে দৈনিক আর সাপ্তাহিক কাজের ঘণ্টার সীমা বেঁধে দেওয়া আছে। এর বাইরে যতটুকু কাজ হবে, তার জন্য বেশি হারে ওভারটাইম দিতে হয়, আর এই হার ঠিকভাবে হিসাব করার নিয়ম নিয়ে আলাদা করে জেনে রাখা ভালো। কে কখন কতক্ষণ কাজ করেছেন তার আসল রেকর্ড আপনার কাছে থাকা চাই। শুধু পেরোলের জন্য না। বেতন নিয়ে কখনো ঝামেলা হলে ওই রেকর্ডই আপনার প্রমাণ।
ছুটি। আইনে কয়েক ধরনের ছুটির কথা বলা আছে। নৈমিত্তিক ছুটি, অসুস্থতার ছুটি, আর অর্জিত ছুটি, যা যত বেশি দিন কাজ করা হয় তত জমতে থাকে। এর সাথে উৎসবের বেতনসহ ছুটি তো আছেই। কার কত দিন প্রাপ্য আর কীভাবে তা জমে, সেটা প্রবেশনকাল বা কোন খাতে আছেন তার ওপর নির্ভর করতে পারে। নিয়মগুলোও সময়ে সময়ে বদলায়। তাই গত বছরের হিসাব দেখে দেখে বসিয়ে দেবেন না, আইনের বর্তমান ধারাটা মিলিয়ে নিন।
বেতন আর উৎসব বোনাস। মূল বেতনে ন্যূনতম মজুরির নিয়ম মানতে হয়, আর সেই হার খাতভেদে আলাদা, আর কোন খাতে এখন ন্যূনতম মজুরি কত তা সরাসরি মিলিয়ে নেওয়াই ভালো, কারণ সংখ্যাগুলো সময়ে সময়ে হালনাগাদ হয়। এর সাথে ২০১৫ সালের শ্রম বিধিমালা অনুযায়ী উৎসব বোনাস দিতে হয়, সাধারণত ঈদকে ঘিরে, আর সেটার হিসাব হয় কে কতদিন ধরে কাজ করছেন তার ভিত্তিতে। এখানেই ভুল হওয়ার আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি, কারণ হিসাবটা সাধারণত হাতেই করা হয়।
চাকরি থেকে বিদায়। নোটিশ পিরিয়ড মানতে হয়, আর অনেক ক্ষেত্রেই কে কতদিন কাজ করেছেন আর কেন চলে যাচ্ছেন, সেই হিসাবে পাওনা মিটিয়ে দিতে হয়। এখানে ভুল করাটাই মালিকদের ঝামেলায় জড়ানোর অন্যতম বড় কারণ। শুধু অঙ্কটা ঠিক রাখলেই হবে না, রেকর্ডও ঠিকঠাক রাখুন।
মাতৃত্বকালীন ছুটি, নিরাপত্তা আর কল্যাণ। মাতৃত্বকালীন সুবিধা, কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তার মান, আর বড় কোম্পানির জন্য কল্যাণসংক্রান্ত নিয়মও আইনের মধ্যে আছে।
কোম্পানি বড় হলে এটা কেন কঠিন হয়ে যায়
১০ জন কর্মী হলে একজন এইচআর আর একটা স্প্রেডশিট দিয়েই সব সামলানো যায়। ১০০ জন হলে আর যায় না।
একেকজনের ছুটির হিসাব একেক দিনে গিয়ে পূর্ণ হয়। উৎসব বোনাস আবার সবার জন্য একই সময়ে ঠিকঠাক হতে হয়। আর শেয়ার করা একটা স্প্রেডশিট ছাড়া যদি কোনো রেকর্ড না থাকে, তাহলে পরে কেউ এটা নিয়ে প্রশ্ন তুললে দেখানোর মতো কিছুই আপনার হাতে থাকবে না।
ঠিক এই কারণেই এ ধরনের সফটওয়্যার এসেছে। ভালো বিচার-বুদ্ধির জায়গা নিতে না, বরং বারবার করতে হয় এমন হিসাবগুলো, যেমন কার কত ছুটি বাকি, প্রতিটা কর্মীর জন্য প্রতিবার যেন ঠিক থাকে সেটা নিশ্চিত করতে। Utso-তে ছুটি ব্যবস্থাপনা বাংলাদেশ শ্রম আইন মাথায় রেখেই বসানো, তাই হিসাবটা কারো মাথায় বা এমন কোনো স্প্রেডশিটে পড়ে থাকে না যেটা যে কেউ ভুল করে এলোমেলো করে ফেলতে পারে। বাকি এইচআর সফটওয়্যারের ক্ষেত্রেও একই কথা: নিয়ম একবার বসানো থাকে, আর প্রতিবার ঠিক সেভাবেই কাজ হয়।
আরেকটা কথা
শ্রম আইনে কী কী আছে তার একটা ধারণা দেওয়াই এই লেখার উদ্দেশ্য। এটা আইনি পরামর্শ না। এখানে বলা কিছু বিষয়, যেমন ছুটির দিন বা নোটিশ পিরিয়ড, সময়ের সাথে সংশোধিত হয়। তাই এসবের ভিত্তিতে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বর্তমান আইনটা দেখে নিন বা একজন শ্রম আইনজীবীর সাথে কথা বলুন।
