মূল বিষয়বস্তুতে যান
← পেরোল ও ফাইন্যান্স
পেরোল ও ফাইন্যান্স··৩ মিনিট পড়া

বাংলাদেশে প্রাইভেট কোম্পানির জন্য প্রভিডেন্ট ফান্ডের নিয়ম

মূল বিষয়

  • প্রভিডেন্ট ফান্ড হলো একধরনের সঞ্চয় ব্যবস্থা, প্রতি মাসে মূল বেতনের একটা শতাংশ কাটা হয়, মালিকও সমান টাকা জমা দেন, আর কর্মী চাকরি ছাড়লে বা অবসরে গেলে জমা সুদসহ পুরোটা দেওয়া হয়।
  • কিছু কোম্পানি চাঁদাযুক্ত ফান্ড চালায়, অর্থাৎ মালিক আর কর্মী দুজনেই প্রতি মাসে টাকা দেন, আবার কেউ কেউ চাঁদাবিহীন ফান্ড চালায়, যেখানে টাকাটা শুধু মালিকই দেন।
  • ঠিকভাবে একটা প্রভিডেন্ট ফান্ড দাঁড় করাতে হলে লিখিত ট্রাস্ট নিয়ম লাগে, চাঁদার হার নির্দিষ্ট করে দিতে হয়, আর কখন ও কীভাবে টাকা ফেরত দেওয়া হবে তা আগে থেকেই পরিষ্কার করে লিখে রাখতে হয়।
  • ফান্ড চালু হয়ে গেলে কাউকে না কাউকে হিসাব রাখতেই হয়, কে কত চাঁদা দিলেন, কোম্পানি কত দিল, আর মোট কত জমল, কারণ স্প্রেডশিটে বছরের পর বছর হিসাব রাখলে ছোট ছোট ভুল চুপচাপ জমতে থাকে।
এই পেজে যা আছে
  1. প্রভিডেন্ট ফান্ড আসলে কী
  2. চাঁদাযুক্ত বনাম চাঁদাবিহীন ফান্ড
  3. সঠিকভাবে একটা ফান্ড গঠন করা
  4. মানুষের ধারণার চেয়ে ট্র্যাকিং কেন বেশি গুরুত্বপূর্ণ
  5. কেউ চলে গেলে কী হয়
  6. বেশিরভাগ কোম্পানির আসল অবস্থা
  7. আরেকটা কথা

বাংলাদেশে কর্মীদের দীর্ঘমেয়াদি সুবিধা নিয়ে কথা উঠলেই প্রভিডেন্ট ফান্ডের প্রসঙ্গ আসে। আর প্রায় প্রতিবারই দেখা যায়, নিজের কোম্পানিতে এটা আসলে কীভাবে চলে সেটা সেখানে উপস্থিত কেউই ঠিকভাবে বলতে পারেন না। প্রভিডেন্ট ফান্ড জিনিসটা আসলে কী, আর মালিক হিসেবে আপনার কোন কোন দিক ঠিক রাখা দরকার, সেটাই সহজ করে বলছি।

শুরুতেই পরিষ্কার করে নেওয়া ভালো, এটা উৎসব বোনাসের মতো বিষয় না। উৎসব বোনাস বছরে এক বা দুইবার নির্দিষ্ট সময়ে দিতে হয়, আর প্রভিডেন্ট ফান্ড কর্মীর পুরো চাকরিজীবন জুড়ে চুপচাপ জমতে থাকে, তিনি চাকরি ছাড়লে তবেই পুরোটা হাতে পান। দুটোই চাকরির মেয়াদের সাথে যুক্ত, কিন্তু বাজেট করার সময় দুটোকে সম্পূর্ণ আলাদাভাবে দেখতে হয়।

প্রভিডেন্ট ফান্ড আসলে কী

প্রভিডেন্ট ফান্ড হলো একধরনের সঞ্চয় ব্যবস্থা, যেখানে একজন কর্মীর চাকরিজীবন জুড়ে অল্প অল্প করে টাকা জমতে থাকে। প্রতি মাসে নিয়মিত চাঁদা কাটা হয়, সাধারণত মূল বেতনের একটা নির্দিষ্ট শতাংশ, আর মালিকও সেই সমান টাকা জমা দেন। বছরের পর বছর ধরে এই টাকা জমে, আর কর্মী চাকরি ছাড়লে বা অবসরে গেলে জমা সুদসহ পুরোটা তাঁকে দিয়ে দেওয়া হয়। উদ্দেশ্যটা সহজ: কর্মী নিজে থেকে সঞ্চয় করবেন এই ভরসায় বসে না থেকে, নিয়ম করে টাকা জমিয়ে তাঁর হাতে একটা আর্থিক ভরসা তুলে দেওয়া।

চাঁদাযুক্ত বনাম চাঁদাবিহীন ফান্ড

কিছু কোম্পানি চাঁদাযুক্ত ফান্ড চালায়, অর্থাৎ মালিক আর কর্মী দুজনেই প্রতি মাসে টাকা দেন। আবার কেউ কেউ চাঁদাবিহীন ফান্ড চালায়, যেখানে টাকাটা শুধু মালিকই দেন। আপনার কোম্পানিতে কোন কাঠামোটা চলবে আর চাঁদার হার কত হবে, সেটা নির্ভর করে ফান্ডটা কীভাবে গঠন করা হয়েছে আর কর্মীদের সঙ্গে কী কথা হয়েছে তার ওপর। সবার জন্য এক হার বলে কিছু নেই।

সঠিকভাবে একটা ফান্ড গঠন করা

প্রভিডেন্ট ফান্ড এমন জিনিস না যে হুট করে ঘোষণা দিয়ে বেতন থেকে টাকা কাটা শুরু করে দেবেন। ঠিকভাবে একটা ফান্ড দাঁড় করাতে হলে সাধারণত লিখিত ট্রাস্ট নিয়ম লাগে, চাঁদার হার নির্দিষ্ট করে দিতে হয়, আর কখন ও কীভাবে টাকা ফেরত দেওয়া হবে সেই শর্তগুলোও পরিষ্কার করে লিখে রাখতে হয়। শুরুতেই কাঠামোটা ঠিক করে নিলে পরে কে কতটুকু পাবেন তা নিয়ে ঝামেলা হয় না।

মানুষের ধারণার চেয়ে ট্র্যাকিং কেন বেশি গুরুত্বপূর্ণ

ফান্ড একবার চালু হয়ে গেলে কাউকে না কাউকে হিসাব রাখতেই হয়, কে কত চাঁদা দিলেন, কোম্পানি কত দিল, আর এখন পর্যন্ত মোট কত জমল। এই হিসাব রাখতে হয় প্রতিটা কর্মীর জন্য আলাদাভাবে, প্রতি মাসে, তিনি যতদিন কোম্পানিতে আছেন ততদিন। কয়েক ডজন কর্মীর এই হিসাব কয়েক বছর ধরে স্প্রেডশিটে রাখলে ছোট ছোট ভুল চুপচাপ জমতে থাকে। ধরা পড়ে ঠিক তখন, যখন কেউ চাকরি ছাড়ার সময় তাঁর জমা টাকার সঠিক অঙ্কটা জানতে চান।

কেউ চলে গেলে কী হয়

কারো চাকরি শেষ হলে তাঁর প্রভিডেন্ট ফান্ডে জমা টাকার হিসাব ঠিকঠাক করে ফান্ডের নিয়ম অনুযায়ী বুঝিয়ে দিতে হয়। এই হিসাবটা করার জন্য আগের বছরগুলোর পরিষ্কার রেকর্ড হাতে থাকা দরকার। কেউ পদত্যাগ করার পর সেই সপ্তাহে তাড়াহুড়ো করে পুরনো কাগজ ঘেঁটে হিসাব মেলানোর কাজ এটা না।

সেই সময় শুধু প্রভিডেন্ট ফান্ডই প্রাপ্য হয় না। গ্র্যাচুইটিও আলাদাভাবে আইনত প্রাপ্য একটা টাকা, যেটা নির্ভর করে চাকরির মেয়াদের ওপর, আর এটার সঠিক হিসাবের জন্যও ঠিক একই রকম পরিষ্কার পুরনো রেকর্ড লাগে।

বেশিরভাগ কোম্পানির আসল অবস্থা

বাংলাদেশের অনেক ছোট-মাঝারি কোম্পানি হয় আনুষ্ঠানিক প্রভিডেন্ট ফান্ড রাখেই না, নয়তো ঠিকঠাক রেকর্ড ছাড়াই অনানুষ্ঠানিকভাবে একটা চালিয়ে যায়। দুটোর কোনোটাই ভালো অবস্থা না। ফান্ড না থাকলে যেসব কোম্পানি এই সুবিধা দেয় তাদের কাছে আপনি ভালো কর্মী হারাবেন।

আর রেকর্ড ছাড়া অনানুষ্ঠানিক ফান্ড মাথার ওপর ঝুলে থাকা দায়, যেদিন কোনো কর্মী তাঁর জমা টাকার হিসাব নিয়ে শক্ত প্রশ্ন করবেন সেদিনই সেটা সামনে এসে দাঁড়াবে।

আরেকটা কথা

এই লেখায় বাংলাদেশে প্রভিডেন্ট ফান্ড জিনিসটা কী, সেই সাধারণ ধারণাটা দেওয়া হয়েছে। আপনার কোম্পানির জন্য ঠিক কোন কাঠামো বা কত হারে চাঁদা প্রযোজ্য, সেটা এখানে বলা নেই। নতুন ফান্ড দাঁড় করানো হোক বা চলতি অনানুষ্ঠানিক ফান্ড ঠিক করা হোক, নিজে থেকে আন্দাজ না করে একজন অভিজ্ঞ অ্যাকাউন্ট্যান্ট বা শ্রম আইনজীবীর সঙ্গে বসে কাজটা করে নিন।

শুরু করতে প্রস্তুত?