বাংলাদেশে প্রাইভেট কোম্পানির জন্য প্রভিডেন্ট ফান্ডের নিয়ম

প্রভিডেন্ট ফান্ড নিয়ে বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদি কর্মী সুবিধার প্রায় প্রতিটা আলোচনায়ই কথা ওঠে, আর প্রায় ততটাই বার, ঘরে কেউ ঠিকভাবে বলতে পারেন না তাদের নিজের কোম্পানিতে এটা আসলে কীভাবে কাজ করে। প্রভিডেন্ট ফান্ড আসলে কী, আর মালিকদের কী কী ঠিকভাবে করা দরকার, তার একটা সহজ ব্যাখ্যা এখানে দেওয়া হলো।

প্রভিডেন্ট ফান্ড আসলে কী

প্রভিডেন্ট ফান্ড হলো একটা সঞ্চয় স্কিম যা একজন কর্মীর পুরো চাকরিজীবন জুড়ে গড়ে ওঠে, নিয়মিত চাঁদার মাধ্যমে, সাধারণত মূল বেতনের একটা অংশ, যার সাথে মালিক সমপরিমাণ যোগ করেন। বছরের পর বছর এই টাকা জমে ওঠে, আর সাধারণত জমা সুদসহ কর্মী কোম্পানি ছাড়ার সময় বা অবসর নেওয়ার সময় তা পরিশোধ করা হয়। কর্মীদের নিজে থেকে সঞ্চয় করার ওপর নির্ভর না করে, নিয়মিত, বাধ্যতামূলক সঞ্চয় থেকে একটা আর্থিক নিরাপত্তা দেওয়ার জন্যই এটা আছে।

চাঁদাযুক্ত বনাম চাঁদাবিহীন ফান্ড

কিছু কোম্পানি চাঁদাযুক্ত ফান্ড চালায়, যেখানে মালিক আর কর্মী দুজনেই প্রতি মাসে টাকা দেন। অন্যরা চাঁদাবিহীন ফান্ড চালায়, যেখানে শুধু মালিক টাকা দেন। কোন কাঠামো প্রযোজ্য, আর ঠিক কত হারে চাঁদা দিতে হবে, তা নির্ভর করে আপনার কোম্পানিতে ফান্ডটা কীভাবে গঠন করা হয়েছে আর কর্মীদের সাথে কী সমঝোতা হয়েছে তার ওপর, তাই এটা সবার জন্য একই সংখ্যা না।

সঠিকভাবে একটা ফান্ড গঠন করা

প্রভিডেন্ট ফান্ড এমন কিছু না যা হুট করে ঘোষণা দিয়ে কেটে নেওয়া শুরু করা যায়। সঠিকভাবে একটা গঠন করতে সাধারণত আনুষ্ঠানিক ট্রাস্ট নিয়ম, নির্দিষ্ট চাঁদার হার, আর ফান্ড কখন ও কীভাবে পরিশোধ হবে তার স্পষ্ট শর্ত লাগে। শুরুতেই এই কাঠামো ঠিকভাবে করলে পরে কর্মীরা আসলে কী পাওয়ার অধিকারী তা নিয়ে বিরোধ এড়ানো যায়।

মানুষের ধারণার চেয়ে ট্র্যাকিং কেন বেশি গুরুত্বপূর্ণ

একবার ফান্ড তৈরি হয়ে গেলে, কাউকে ঠিক ট্র্যাক করতে হয় প্রতিটা কর্মী কত চাঁদা দিয়েছেন, কোম্পানি কত মিলিয়েছে, আর চলমান ব্যালেন্স কত, প্রতিটা কর্মীর জন্য, প্রতি মাসে, যতদিন তারা সেখানে কাজ করেন। কয়েক ডজন কর্মীর জন্য কয়েক বছর ধরে এটা স্প্রেডশিটে করলে, ছোট ছোট ভুল নিঃশব্দে জমতে থাকে, যতক্ষণ না কেউ চলে যাওয়ার সময় তার সঠিক ব্যালেন্স জানতে চান।

কেউ চলে গেলে কী হয়

চাকরি শেষ হলে, প্রভিডেন্ট ফান্ডের ব্যালেন্স সঠিকভাবে হিসাব করে ফান্ডের নিয়ম অনুযায়ী পরিশোধ করতে হয়। এটা ঠিক সেই ধরনের হিসাব যেখানে একটা কোম্পানির পরিষ্কার ঐতিহাসিক রেকর্ড দরকার, কেউ পদত্যাগ করার সপ্তাহে সময়ের চাপে বসে পুনর্গঠন করার মতো কাজ না।

বেশিরভাগ কোম্পানির আসল অবস্থা

বাংলাদেশের অনেক এসএমই হয় আনুষ্ঠানিক প্রভিডেন্ট ফান্ডই চালায় না, নয়তো ঠিকঠাক রেকর্ড ছাড়া অনানুষ্ঠানিকভাবে একটা চালায়। কোনোটাই ভালো অবস্থান না। কোনো ফান্ড না থাকা এমন কোম্পানির বিরুদ্ধে একটা আসল প্রতিযোগিতামূলক অসুবিধা হতে পারে যারা এটা দেয়। আর দুর্বল রেকর্ডের একটা অনানুষ্ঠানিক ফান্ড এমন একটা দায় যা কর্মী তার ব্যালেন্স নিয়ে কঠিন প্রশ্ন করার দিনে সামনে চলে আসে।

আরেকটা কথা

এই লেখায় বাংলাদেশে প্রভিডেন্ট ফান্ডের সাধারণ ধারণা ব্যাখ্যা করা হয়েছে, আপনার কোম্পানিতে প্রযোজ্য নির্দিষ্ট কাঠামো বা চাঁদার হার না। এটা সঠিকভাবে গঠন করা, বা একটা অনানুষ্ঠানিক ফান্ড ঠিক করা, অনুমান না করে একজন যোগ্য অ্যাকাউন্ট্যান্ট বা শ্রম আইনজীবীর সাথে করাই ভালো।

শেয়ার করা
Scroll to Top