বাংলাদেশে প্রতিটা বেতনভোগী মানুষ স্ল্যাব অনুযায়ী আয়কর দেন, আর বেতন হাতে দেওয়ার আগেই মালিককে সেখান থেকে একটা অংশ কেটে রাখতে হয়। আপনি যদি এইচআর বা ফিন্যান্সে কাজ করেন, তাহলে এই বছরের সংখ্যাগুলো মুখস্থ রাখাটা আসল কথা না। আসল কথা হলো পুরো ব্যাপারটা কীভাবে চলে তা বোঝা, কারণ সংখ্যা তো প্রতি বছরই বদলায়।
বেতনের কর আসলে কীভাবে কাজ করে
বাংলাদেশে করবছর চলে জুলাই থেকে জুন, অর্থবছরের সাথে মিলিয়ে। বেতনভোগী কর্মীরা কর দেন স্ল্যাব অনুযায়ী। শুরুতে একটা অঙ্ক পর্যন্ত কোনো কর লাগে না, তারপর আয় যত বাড়ে হারও তত বাড়তে থাকে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, মানে এনবিআর, প্রায় প্রতি বছরই অর্থ আইনে এই সংখ্যাগুলো বদলায়। তাই দুই বছর আগে যে সংখ্যাটা ঠিক ছিল, আজ সেটা ভুল হতে পারে।
যে কথাটা কখনো বদলায় না: রিটার্ন জমা দেওয়ার বা পেরোল চালানোর আগে এই বছরের সংখ্যাগুলো সরাসরি nbr.gov.bd-তে দেখে নিন, নয়তো একজন কর বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলুন। বাংলাদেশে পেরোলে সবচেয়ে বেশি যে ভুলটা হয় আর যার খেসারতও সবচেয়ে বেশি, তা হলো গত বছরের সংখ্যা দিয়ে হিসাব করা।
কর হিসাবের জন্য বেতন হিসেবে আসলে কী গণ্য হয়
মূল বেতনের সাথে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা আর যাতায়াতের মতো ভাতা মিলিয়ে যা দাঁড়ায়, সাধারণত সেটাই করযোগ্য বেতন। এসব ভাতার কিছু অংশ একটা নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত করমুক্ত থাকে, আর সেই সীমা বছরে বছরে বদলাতে পারে। পে-স্লিপে মূল বেতন আর ভাতার ভাগটা ঠিকভাবে করা নিছক আনুষ্ঠানিকতা না। এর ওপরেই ঠিক হয় শেষমেশ কত কর দিতে হবে। এই পুরো কাঠামোর শুরুর বিন্দুটাই হলো কর্মীর খাতের ন্যূনতম মজুরি, কারণ মূল বেতন আইনত এর নিচে নামতে পারে না।
উৎসে কর কর্তন, বা টিডিএস
এটা বছর শেষে কর্মীর ঘাড়ে ছেড়ে দেওয়ার মতো কিছু না। এটা বাদ পড়লে বা ভুল হলে ঝুঁকিতে পড়েন শুধু ওই কর্মী না, কোম্পানিও।
বাংলাদেশে মালিককে বেতন দেওয়ার আগেই সেখান থেকে আয়কর কেটে রাখতে হয়, তারপর সেই টাকা সরকারকে জমা দিয়ে হিসাব দাখিল করতে হয়। এই কর্তনটা প্রতি মাসে কর্মীর স্যালারি স্লিপে নিজের একটা আলাদা সারিতে স্পষ্টভাবে দেখানো উচিত, বড় কোনো অঙ্কের সাথে মিশিয়ে না দিয়ে, যাতে ঠিক কত কাটা হলো আর কেন তার একটা স্পষ্ট হিসাব থাকে।
বিনিয়োগের মাধ্যমে কর রেয়াত পাওয়া
সরকার নির্দিষ্ট কিছু অনুমোদিত খাতে টাকা রাখলে তার বিপরীতে কর রেয়াত দেয়। যেমন প্রভিডেন্ট ফান্ডের চাঁদা, কিছু সঞ্চয়পত্র আর জীবন বিমার প্রিমিয়াম। এতে আপনার করযোগ্য আয় কমে না, কমে যে করটা আপনাকে দিতে হবে সেটা। আর এই রেয়াতের একটা সর্বোচ্চ সীমা থাকে, যা কোনো বছর আয়ের অনুপাতে ঠিক হয়, কোনো বছর নির্দিষ্ট একটা অঙ্কে বাঁধা থাকে। যেসব কোম্পানি কর্মীদের এটা আগেভাগে বুঝিয়ে দেয়, ডিসেম্বরে তাদের কাছে বিভ্রান্ত প্রশ্ন অনেক কম আসে।
রিটার্ন ফাইল করা
প্রতিটা ব্যক্তি করদাতাকে বছরে একবার রিটার্ন জমা দিতে হয়, সাধারণত অর্থবছর শেষ হওয়ার কয়েক মাস পর। যদিও এনবিআর মাঝেমধ্যে সময়সীমা পিছিয়ে দেয়। এখন অনেকেই ই-রিটার্ন সিস্টেমে অনলাইনে জমা দিচ্ছেন। যাদের বেতনের হিসাব সহজ, তাদের জন্য কাগজে করার চেয়ে এটা দ্রুত হয়।
কোম্পানি বড় হলে এটা কোথায় ভেঙে পড়ে
কর্মী যখন হাতেগোনা কয়েকজন, তখন টিডিএস আর পে-স্লিপের হিসাব হাতেই রাখা যায়। কিন্তু একটা আকারের পর হাতে কর হিসাব করাটাই পেরোলের ভুলের বড় উৎস হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে যখন একেক পদে একেক রকম ভাতা থাকে, কিংবা স্ল্যাব বদলে যাওয়ার পর কেউ প্রতিটা কর্মীর স্প্রেডশিট আপডেট করতে ভুলে যান।
ঠিক এই কাজটাই পেরোলের ভেতরে নিজে থেকে সামলানোর জন্য Utso তৈরি। প্রতিটা কর্মীর জন্য, প্রতি মাসেই টিডিএস, ভাতা আর কর্তনের হিসাব একই সঠিক নিয়মে হয়। পুরো বছর একটা স্প্রেডশিট ঠিক থাকবে, এই আশায় বসে থাকতে হয় না। কর্তনের দিকটা কীভাবে বসানো হয়, তা দেখা যায় পেরোল সফটওয়্যার পেজে।
আরেকটা কথা
বাংলাদেশে বেতনের ওপর কর কীভাবে বসে, এই লেখায় সেটাই বোঝানো হয়েছে। ইচ্ছা করেই এখানে এই বছরের করমুক্ত অঙ্ক বা স্ল্যাবের হার দেওয়া হয়নি, কারণ প্রতিটা অর্থ আইনের সাথে এগুলো বদলে যায়। জোর গলায় একটা পুরনো সংখ্যা বলে দিলে তাতে উপকারের চেয়ে ক্ষতিই বেশি হতো। তাই কিছু করার আগে এখনকার সংখ্যাগুলো এনবিআর বা একজন কর বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে যাচাই করে নিন।
