মূল বিষয়বস্তুতে যান
← এইচআর ও কমপ্লায়েন্স
এইচআর ও কমপ্লায়েন্স··৩ মিনিট পড়া

বাংলাদেশে আইনগতভাবে একজন কর্মীকে কীভাবে বরখাস্ত করবেন

মূল বিষয়

  • বাংলাদেশ শ্রম আইনে অসদাচরণের কারণে বরখাস্ত, কারণ ছাড়াই চাকরিচ্যুতি, পদত্যাগ আর ছাঁটাই, প্রতিটার নোটিশ আর পাওনার নিয়ম আলাদা।
  • শ্রম আইনে নোটিশ পিরিয়ড কতদিন হবে তা বলা আছে, বৈধ কারণ ছাড়া তা এড়ানো বা কমানোই মালিকদের ঝামেলায় পড়ার সবচেয়ে সাধারণ কারণ।
  • কোনো চাকরিচ্যুতি নিয়ে পরে প্রশ্ন উঠলে কে কী মনে রেখেছেন তা না, কোম্পানির কাগজপত্রই তখন আসল, তাই সমস্যা আর সতর্কবার্তা ঘটার সাথে সাথেই লিখে রাখতে হবে।
  • শেষ পাওনা, বকেয়া বেতন, না নেওয়া অর্জিত ছুটি, আর প্রযোজ্য হলে গ্র্যাচুইটি, ঠিকভাবে হিসাব করে সময়মতো বুঝিয়ে দিতে হবে।
এই পেজে যা আছে
  1. আপনি আসলে কোন ধরনের বিদায় দিচ্ছেন তা আগে বুঝে নিন
  2. নোটিশ পিরিয়ড ঐচ্ছিক না
  3. কাগজপত্রই পরে আপনাকে বাঁচাবে
  4. শেষ পাওনার হিসাব ঠিক হতে হবে
  5. কথোপকথনটাই গুরুত্বপূর্ণ
  6. এখানে একই নিয়ম মানা মানে কী
  7. এখানে স্মৃতি না, একটা সিস্টেম দরকার
  8. আরেকটা কথা

কাউকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তটা ওই মুহূর্তে সবসময়ই খুব জরুরি মনে হয়, আর ঠিক তখনই ভুলগুলো হয়। বাংলাদেশে এটা ভুলভাবে করলে শুধু একটা তিক্ত কথাবার্তার ঝুঁকি থাকে না, রীতিমতো আইনি ঝামেলার ঝুঁকি থাকে। চাকরিচ্যুতিটা আইনের চোখে টিকতে হলে আসলে কী কী করতে হবে, সেটাই এখানে বলছি।

আপনি আসলে কোন ধরনের বিদায় দিচ্ছেন তা আগে বুঝে নিন

বাংলাদেশ শ্রম আইনে চাকরি শেষ হওয়ার ধরন অনুযায়ী নিয়মও আলাদা। অসদাচরণের কারণে বরখাস্ত, কারণ ছাড়াই চাকরিচ্যুতি, পদত্যাগ আর ছাঁটাই, প্রতিটার নোটিশ আর পাওনা নিয়ে নিজস্ব নিয়ম আছে। তাই কিছু করার আগে পরিষ্কার হয়ে নিন, আপনার ঘটনাটা আসলে কোন ঘরে পড়ে। কারণ কোন প্রক্রিয়াটা ঠিক হবে তা পুরোপুরি এর ওপরেই নির্ভর করে।

নোটিশ পিরিয়ড ঐচ্ছিক না

শ্রম আইনে নোটিশ পিরিয়ড কতদিন হবে তা বলা আছে। বৈধ কারণ ছাড়া সেটা এড়িয়ে যাওয়া বা কমিয়ে দেওয়াই মালিকদের ঝামেলায় পড়ার সবচেয়ে সাধারণ কারণগুলোর একটা।

সাথে সাথে চাকরিচ্যুত করার সত্যিকারের কারণ থাকলে সেটা লিখিতভাবে রেকর্ডে রাখতে হবে, ঘটনার মুহূর্তে মুখে মুখে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললে চলবে না।

কাগজপত্রই পরে আপনাকে বাঁচাবে

কোনো চাকরিচ্যুতি নিয়ে পরে প্রশ্ন উঠলে কে কী মনে রেখেছেন তাতে কিছু আসে যায় না, কোম্পানির কাগজপত্রই তখন আসল। পারফরম্যান্সের সমস্যা, সতর্কবার্তা আর যেকোনো অসদাচরণ ঘটার সাথে সাথেই লিখে রাখতে হবে। কাউকে বাদ দেওয়ার পর স্মৃতি হাতড়ে সেসব বানিয়ে নেওয়া চলে না।

কাগজপত্র না থাকলে চাকরিচ্যুতির পক্ষে যুক্তি দাঁড় করানো অনেক কঠিন, সিদ্ধান্তটা যতই যুক্তিসঙ্গত হোক না কেন।

শেষ পাওনার হিসাব ঠিক হতে হবে

কেউ চলে গেলে তার যা পাওনা, বকেয়া বেতন, না নেওয়া অর্জিত ছুটি, প্রযোজ্য হলে গ্র্যাচুইটি, সবটা ঠিকভাবে হিসাব করে সময়মতো বুঝিয়ে দিতে হবে। শেষ পাওনার হিসাবে ভুল করাটাই ঝামেলার সবচেয়ে সাধারণ কারণ, বিশেষ করে ঠিক তখন, যখন মানুষটা এমনিতেই চাকরি হারিয়ে ক্ষুব্ধ।

কথোপকথনটাই গুরুত্বপূর্ণ

খবরটা কীভাবে দেওয়া হচ্ছে, তার ওপরেই অনেকটা নির্ভর করে মানুষটা সেটা কীভাবে নেবেন। পরিষ্কার আর সম্মানজনকভাবে কথাটা বলা, সেই সাথে এমন কাগজপত্র দেখানো যা কর্মী আগেই দেখেছেন, এতে ব্যাপারটা অনেক কম তেতো হয়। উল্টো দিকে, মূল সিদ্ধান্তটা যতই যুক্তিসঙ্গত হোক, সেটা হঠাৎ করে বা খেয়ালখুশিমতো নেওয়া হয়েছে মনে হলে বিষয়টা অনেক দূর গড়াতে পারে।

এখানে একই নিয়ম মানা মানে কী

দুজন কর্মী একই কাজ করলেন, অথচ বরখাস্ত হলেন শুধু একজন। এই অসঙ্গতি নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুললে তা বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। ঠিক এ কারণেই লিখিত একটা এইচআর নীতি থাকা দরকার, যা সবাই আসলেই মেনে চলেন। আগে একই রকম ঘটনা যেভাবে সামলানো হয়েছিল, এবারেরটা তার থেকে আলাদা দেখালে সেই সিদ্ধান্তের পক্ষে দাঁড়ানো অনেক কঠিন হয়ে যায়।

এখানে স্মৃতি না, একটা সিস্টেম দরকার

চাকরিচ্যুতি ঠিকভাবে করতে হলে পরিষ্কার রেকর্ড লাগে। ছুটি আর চাকরির নির্ভুল ইতিহাস, লিখিত সতর্কবার্তা, শেষ পাওনার সঠিক অঙ্ক, এসব যেন দরকারের সময় হাতের কাছেই থাকে। কাউকে বাদ দেওয়ার দিন চাপের মধ্যে বসে এগুলো জোড়া দেওয়ার জিনিস না। এই ইতিহাসের বেশিরভাগটাই শুরু হয় কর্মীর প্রথম দিনের সঠিক অনবোর্ডিং প্রক্রিয়া থেকে, কারণ চাকরিচ্যুতি আসলে একই রেকর্ডের অন্য প্রান্ত মাত্র। ঠিক এই রেকর্ডগুলো যাতে নিজে থেকেই জমা থাকে, সেজন্যই Utso তৈরি। ফলে পরিষ্কারভাবে আর আইন মেনে কাউকে বিদায় দিতে যা যা তথ্য লাগে, মুহূর্তটা আসার আগেই তা তৈরি থাকে। কোন কোন রেকর্ড কীভাবে রাখা হয়, তা দেখা যায় এইচআর সফটওয়্যার পেজে।

আরেকটা কথা

বাংলাদেশে আইন মেনে কাউকে চাকরি থেকে বিদায় দিতে সাধারণভাবে কী কী লাগে, এই লেখায় সেটাই বোঝানো হয়েছে। এটা আপনার নির্দিষ্ট পরিস্থিতির জন্য পরামর্শ না। ভুলভাবে সামলালে প্রতিটা চাকরিচ্যুতিতেই আইনি ঝুঁকি থাকে, তাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে একজন শ্রম আইনজীবীর সাথে কথা বলে নিন, বিশেষ করে যেসব ক্ষেত্রে পরে প্রশ্ন উঠতে পারে।

শুরু করতে প্রস্তুত?